মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৬

পবিত্র রমযান উপলক্ষে পুনর্গঠন করা হচ্ছে সরকারি বাজার মনিটরিং কমিটি

নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা, পণ্যের অস্বাভাবিক মজুদ ঠেকানোসহ সরবরাহ ঠিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে
র গঠিত ১৪টি মনিটরিং টিম এখন পুরোপুরি অকার্যকর। নানা অজুহাতে এই কমিটি বর্তমানে কাজ করছে না। তাই আসন্ন রমজানে বাজার মনিটরিং সিস্টেম জোরদার করতে সরকার গঠিত বাজার মনিটরিং কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত কমিটিগুলোর প্রধান করা হয় সরকারের উপসচিব পদ মর্যাদার ১৪ জন কর্মকর্তাকে। যাদের অধিকাংশই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধিন সংস্থায় কর্মরত। এ সময়ের মধ্যে এই ১৪ জন কর্মকর্তার অনেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয় বা দফতরে বদলি হয়ে গেছেন। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, কেউ অবসরে গেছেন। আবার কেউ-কেউ অন্য মন্ত্রণালয় থেকে বদলি হয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা বাজার মনিটরিং কমিটিতে নেই। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ কমিটি প্রধানের পদ খালি। তাই কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সারাবছর বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গঠিত কমিটিতে উপসচিব পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিটি কমিটির ছয় মাস করে বাজারে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করার কথা। প্রতিটি কমিটিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশিন ও ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সারাবছরের জন্য গঠিত এই ১৪টি মনিটরিং টিম গঠিত হলেও টিমগুলো মূলত কাজ করে রোজার সময়। অন্য সময় বাজার অস্থিতিশীল না হলে খুব একটা বাজার মনিটরিং করা হয় না। 
বর্তমানে যে ১৪টি মনিটরিং কমিটি রয়েছে, সেগুলো গঠিত হয়েছে ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এ কমিটির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। ১ জুলাই থেকে এমনিতেই দ্বিতীয় দফায় গঠিত নতুন কমিটির কাজ করার কথা। কাজেই এর আগে হয় নতুন কমিটি গঠিত হবে নতুবা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। এ কারণেই কমিটিগুলো পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটিগুলো বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে পণ্যের আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিটি জেলায় জেল প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে গঠিত হবে বাজার মনিটরিং কমিটি। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে কমিটিগুলোকে প্রতিদিনের বাজার মনিটরিং শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জানা গেছে, এবারের রমযানে মনিটরিং কমিটিগুলোকে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা দেয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কমিটি অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজনে অবৈধ মজুদে হানা দিয়ে মজুদকৃত পণ্য অবমুক্ত করতে পারবেন বাজার মনিটরিং কমিটি। জানা গেছে, এবারও অতীতের মতো বাজারের প্রতিটি দোকানের সামনে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। 
রমজানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর, ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনও বাজার নিয়ন্ত্রণে চার-পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাধিক মনিটরিং কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্য ভেজাল ও ফরমালিমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ী এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশও দেয়া হবে এবার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন